শুক্রবার । ২৬শে জুন, ২০২৬ । ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩

আলোকিত মানুষ গড়তে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি

একরামুল হোসেন লিপু

খুলনায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে গত দুই দশক ধরে আলোকিত মানুষ গড়তে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি খুলনা ইউনিট। বিশেষায়িত গাড়িতে শহরের ৪৫টি স্পটে বই প্রেমী পাঠকের হাতে বই তুলে দিচ্ছে। শিডিউল অনুযায়ী শহরের ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়, ২৯টি স্কুল ও কলেজ এবং দশটি আবাসিক স্পটে আধা ঘণ্টা থেকে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা লাইব্রেরির বিশেষায়িত গাড়িটি অবস্থান নিয়ে পাঠকদের মাঝে বই দেওয়া নেওয়া করা হয়। গাড়িতে শিশু শ্রেণি থেকে শুরু করে সব বয়সি পাঠকদের উপযোগী বই রয়েছে। বর্তমানে সদস্য সংখ্যা দশ হাজার ৬৭৪ জন। গাড়ির শেলফে বই রয়েছে ছয় সহস্রাধিক। একজন ইনচার্জ, চালক এবং সহকারী চালক লাইব্রেরির কার্যক্রম চালাচ্ছেন। সপ্তাহে ছয় দিনের প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা করে এর কার্যক্রম চলে।

লাইব্রেরি ইনচার্জ কামিনী সুলতানা বলেন, ‘খুলনা মহানগরীর ৪৫টি স্পটে সপ্তাহে ছয় দিন ভিন্ন ভিন্ন সিডিউলে পাঠকদের মাঝে বই দেয়া নেয়া করা হয়। প্রতিটা পয়েন্টে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পাঠকদের জন্য অপেক্ষা করা হয়। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে কার্যক্রম শুরু হয়। সব বয়সী পাঠকদের উপযোগী বই রয়েছে। লাইব্রেরি থেকে বই নিতে হলে প্রথমে একজন পাঠককে সদস্য হতে হয়। ১০০ টাকায় সাধারণ সদস্য, ২০০ টাকায় বিশেষ সদস্য, ৫০০ টাকায় অগ্রবর্তী সদস্য এবং ৮০০ টাকায় বিশেষ অগ্রগতি সদস্য হওয়া যায়। সদস্যদের মেয়াদকাল আজীবন। পাঠক অন্তর্ভুক্তির কাজ চলমান প্রক্রিয়া, যা সারা বছর অব্যাহত থাকে। ক্রমান্বয়ে পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে-কোনো সদস্য লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে বাড়ি পড়তে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির গাড়ির শেলফে ৬ হাজার ৫৭টি বই রয়েছে। এরমধ্যে উপন্যাস, শিশু সাহিত্য, মনীষীদের জীবনী, অনুবাদ, ছোট গল্প, বড় গল্প, ছড়া, কবিতা, নজরুল ও রবীন্দ্র সাহিত্য, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক বই, প্রখ্যাত ভারতীয় লেখকদের বিভিন্ন ধরনের উপন্যাস, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিশুদের জন্য রিডিং ফর প্লেজার ইত্যাদি।’

তিনি বলেন, ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি স্পটের মধ্যে মেয়েদের দু’টি আবাসিক অপরাজিতা হল ও বিজয় ২৪ হলের সামনে এবং ছেলেদের খাজা হল ও হাদি চত্বরে প্রতি রবিবার ৩ ঘণ্টা অবস্থান নেওয়া হয়। এছাড়া খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এ প্রতি বুধবার দু’টি অডিটোরিয়াম ও রোকেয়া হলের সামনে অবস্থান নেওয়া হয় আড়াইটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন